দিনে ৩-৪ ঘন্টা ঘুমাতেন বিসিএস এ ৩৭তম হওয়া শুভ মজুমদার

ঢাকার ছেলে শুভ মজুমদার। বর্তমানে চাকরির সূত্রে চট্টগ্রামে বসবাস। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেন তিনি।

ইচ্ছে ছিলো ডাক্তার হওয়ার। শহীদ বীর বিক্রম রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে পরীক্ষা দেন মেডিকেলে। কিন্তু সেখানে চান্স হয়নি তার। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোলে এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে চান্স পেলেও ভর্তি হননি। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে ভর্তি হন। মানুষের ডাক্তার  না হতে পারি প্রাণীর ডাক্তার তো হওয়া যাবে এই চিন্তা থেকেই এখানে ভর্তি হওয়া তার। 

বিসিএস দেওয়ায় সিদ্ধান্ত নিলেন কেনো, এই প্রশ্নের জবাবে মজুমদার সাহেব বলেন, “এইচ.এস.সি পরিক্ষার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য কিছু কাগজপত্র সত্যায়ন করার প্রয়োজন ছিলো। একদিন এক বি.সি.এস ক্যাডারের রুমে ১ঘন্টার মতোন অপেক্ষা করি শুধুমাত্র সত্যায়ন করার জন্য। এর পর থেকেই মনে মনে চিন্তা করি আমিও একদিন বি.সি.এস ক্যাডার হবো।” 

পরিক্ষার প্রস্তুতি কখন থেকে নেওয়া শুরু করেন, এই প্রশ্নের উত্তরে সে বলেন, “বি.সি.এস এর প্রস্তুতি মূলত অনার্স ৪র্থ বর্ষ থেকে নেওয়া শুরু করি। তখন দেখতাম বেশিরভাগ শিক্ষার্থী শিক্ষক হওয়ার জন্যই  উৎসাহী ছিলো। তাই আমি ভাবলাম আমি শিক্ষক হবো না কারণ এতে বিশ্ববিদ্যালয়েই থেকে যেতে হবে কিন্তু আমি দেশটা ঘুরে দেখতে চাই। আর তাই ভাবলাম এতে বি.সি.এস এর বিকল্প নেই। ৩৭ তম বি.এস.এস এ প্রথম পরীক্ষা দেই। সে সময় কোন বই আমি ক্রয় করিনি। বড় ভাইদের থেকে বই নিয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু পরীক্ষা দিয়ে ব্যর্থ হই সেবার। রেজাল্টের পরে প্রচুর কেঁদেছিলাম। এর পরের বার আবারও পরীক্ষা দেই ৩৮ তম বি.সি.এস।  প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সময়ই আমার আবার মাস্টার্সের থিসিস জমা দেওয়ার সময় চলে আসে। তার সাথে আবার অগ্রণী ব্যাংকেও একটা পরীক্ষা ছিলো। তিনটার চাপ একসাথে আমার উপর। সারাদিন অফিস করে রাত ১০টা থেকে রাত ৪টা পর্যন্ত পড়ালেখা করতাম তখন। ২০১৮-১৯ সালে আমি কখনো দিনে ঘুমানোর সময় পাইনি। ২৪ ঘন্টায় মাত্র ৩/৪ ঘন্টা ঘুম হতো। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার রেজাল্টে যখন টিকে গেলাম এর পর থেকেই বই কেনা শুরু করি এবং কোচিং ভর্তি হই। বলা যায় মোটামুটি ৭ মাসের  মতোন সময় পাই রিটেনের জন্য। এই সময়ের মাঝেই সবকিছুর প্রস্তুত আমাকে নিতে হয়েছিলো।”

কষ্ট করলে কেষ্ট মিলে এই কথার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছেন শুভ মজুদার সাহেব ।কষ্ট করেছেন বলেই আজ বি.সি.এস এর প্রাণীসম্পদে ৩৭তম হয়েছেন তিনি। বাবার অনুপ্রেরণাতেই এতোদূর আসা তার। বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে কম কষ্টে কম সময় সফলতার হাতছানি দেওয়ার প্রবল ইচ্ছা,যা কিনা বাস্তবে সম্ভব নয়। সময় এবং কষ্ট থাকলে যে কেউই সফলতা লাভ করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *