ধ্বংসাত্মক বৈরুত বিস্ফোর!

গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬ টায় লেবাননের রাজধানী বৈরুতে এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।এই ধরনের ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরণ পৃথিবীর মানুষ খুব কমই দেখেছে!

অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিস্ফোরণে এখনো পর্যন্ত অন্তত ১০০ জন নিহত এবং ৪ হাজার জনেরও বেশি আহতের কথা জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়।(আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার বরাতে)।এছাড়াও অনেকে নিখোঁজ এবং ধ্বংসস্তপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।দিনভর ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতার পরেও অনেকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।মর্মান্তিক এই ঘটনায় ১ বাংলাদেশী নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

টুইটারসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায় কিছু সময় ধরে ধোঁয়ার ঘন কুন্ডলি মাটি থেকে ওপরের দিকে উঠে যাচ্ছে,এর পরপরই প্রচন্ড শব্দ এবং কাঁপুনি নিয়ে বিস্ফোরণটি ঘটে।পরবর্তী কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সাজানো-গোছানো রাজধানী শহরটি আক্ষরিকভাবেই একটি ধ্বংসস্তপে পরিণত হয়।শব্দের তীব্রতা এতোই বেশি ছিলো যে বিস্ফোরণ স্থলের প্রায় ১০ মাইল দূরের দালানগুলোর কাঁচও ভেঙে যায়।

প্রাথমিকভাবে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তায় জানানো হয়েছে বিস্ফোরণের কারণ বিপুল পরিমাণ (২৭৫০ মেট্রিক টন) দাহ্য পদার্থ (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট) রাখা বৈরুতের একটি রাসায়নিক গুদাম।এখনো পর্যন্ত জানা তথ্যমতে গুদামটির মালিক রাশিয়ান এক ব্যক্তি।

তবে আন্তর্জাতিক মহলে ঘটনাটিকে অন্যান্য অনেক দিক থেকেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।খোদ হোয়াইট হাউসের বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটিকে বোমা হামলা হিসেবে সন্দেহ পোষণ করেন। অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এই বিস্ফোরণকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ঘটানো হিরোশিমা-নাগাসাকি বিস্ফোরণের সাথেও তুলনা করছেন।

লেবাননের সাম্প্রতিক আর্থিক মন্দার এই সময়ে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা মারাত্মক ধস নামিয়ে আনতে পারে লেবাননের অর্থনীতিতে,যার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতেও।

তাছাড়া এই হামলা দেশটির রাজনীতিতেও ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।কারণ, এই বিস্ফোরণ ঘটেছে একটা স্পর্শকাতর সময়ে।দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাফিক হারিরিকে ২০০৫ সালে হত্যা মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে এ সপ্তাহেই।গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে মি. হারিরির হত্যায় চারজন সন্দেহভাজনের মামলার রায় জাতিসংঘের একটি ট্রাইব্যুনালের দেবার কথা শুক্রবার।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের সাগরে ভাসছে পুরো বিশ্ব।নিজেদের অবস্থান থেকে শোকবার্তা জানিয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিবর্গ।লেবাননের জনগণের পাশে থাকার আশ্বাসও জানিয়েছে অনেক রাষ্ট্র।আগামী তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে লেবানন সরকার।

খুব শীঘ্রই শোক কাটিয়ে,ক্ষতি পুষিয়ে উঠবে দেশটি এই মুহূর্তে এমনটাই প্রত্যাশা সমগ্র বিশ্ববাসীর।একই সাথে এমন ঘটনা আর কখনোই না ঘটুক সেটাও প্রত্যাশা সবার।

Team TRENDOLOG এর পক্ষ থেকে আমরাও এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিহতদের আত্মার শান্তি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবার ও ব্যক্তির জন্য আন্তরিক সহানুভূতি জানাচ্ছি আমরা।

–আবু বকর সাঈম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *