নিজের কাজের মাধ্যমে অন্যান্য মেয়েদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ায় অনুপ্রাণিত করতে চান হুমায়রা আনজুৃম

ঢাকা শহরে জন্ম নেয়া একটি মেয়ে, হুমায়রা মূলত চাঁদপুরের মেয়ে কিন্তু তার জন্ম স্থান ঢাকা। তার পরিবার অনেক রক্ষণশীল। তাই তাদের কখনো স্বপ্ন ছিলোনা যে তাদের মেয়ে কখনো চাকরি বা ব্যাবসা করবে।

হুমায়রার স্কুলজীবন শুরু হয় পলাশীতে অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিার্সিটি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ থেকে। কলেজ জীবন কাটে রায়হান স্কুল অ্যান্ড কলেজে। বর্তমানে তিনি ইডেন মহিলা কলেজে, মার্কেটিং বিভাগে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

“ছোটবেলায় খুব দুরন্ত ও আকাশে উড়ার তীব্র ইচ্ছা থেকে তিনি পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।”

 এসএসসি তে মোটামুটি রেজাল্ট করেন তিনি।

এর পর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করেন হুমায়রা। সরকার কর্তৃক কলেজ বেছে দেয়ার কারণে তিনি তার কাঙ্খিত কলেজে ভর্তি হতে পারেননি। এরপর বাধ্য হয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বানিজ্য বিভাগে আসতে হয় তার। যখন তিনি কলেজে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তখন কলেজ এর সাথে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। চলতে থাকে মানসিক অত্যাচার এবং ডিপ্রেশন। ডিপ্রেশনের এই ভয়াবহতায় তার মনে আসতে থাকে আত্মহত্যার চিন্তা। পরবর্তীতে কলেজ পরিবর্তন করে নতুন এক কলেজে ভর্তি হন তিনি, দেখতে থাকেন এক নতুন আশার আলো! খুব সফলভাবে নিজেকে  নতুন কলেজের সাথে মানিয়ে নেন তিনি। এবং সেখানে সে খুব ভাল রেজাল্ট করেছিল। জীবনে কঠিন সময় আসবে কিন্তু সেই কঠিন সময় ঘুরে দাঁড়াতে পারলে আমরা বিজয়ী হতে পারব এই বিষয় টি সবাইকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন হুমায়রা!

বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় বর্ষ উঠার পর বুঝতে পারেন নিজের জন্য কিছু করা দরকার, আর তখন থেকেই উদ্যোক্তা হবার প্রবল ইচ্ছা জাগে তার! তাই লকডাউনের এই করোনাকালীন দিনগুলোতেই ৬০০০ টাকা নিয়ে একদিন হঠাৎ কাপড় কিনতে চলে যান তিনি! আর এরপর শুরু করেন তার উদ্যেক্তাকালীন জীবন। ‘ফ তে ফেরিওয়ালা’ এই পেজটির মাধ্যমে।কিন্তু সব ব্যবসা ছেড়ে কাপড়ের ব্যবসা-ই কেন বেছে নিলেন তিনি?

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন,আমাদের মৌলিক চাহিদার দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে বস্ত্র অর্থাৎ কাপড। যেটা আমাদের প্রত্যেকটি মানুষের জন্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই সফল হওয়ার উদ্দেশ্যে এই দ্রব্যটি নিয়েই তিনি কাজ শুরু করেন। 

ভবিষ্যতে যারা কাপড় নিয়ে ব্যবসা করতে চান, তাদের ক্রেতাদের আকর্ষিত করার জন্য স্বল্পমূল্যে অনন্য কালেকশনগুলো আনার উপদেশ হুমায়রার। তার ভাষ্যমতে একজন বিক্রেতার সর্বপ্রথম উচিত একজন ক্রেতার মত চিন্তা করা। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায় করতে হলে যে খুব মোটা অংকের পুঁজি নিয়ে মাঠে হবে তা নয়। নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার অদম্য ইচ্ছা আর ঝুঁকিগ্রহণের মানসিকতা রেখে কম পুঁজিতেও একটি সফল ব্যবসায় দাঁড় করানো যায়। যেটি তিনি নিজেও করেছেন।

  • ভবিষ্যতে নিজের প্রতিষ্ঠানকে একটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড হিসেবে দেখতে চান হুমায়রা। যেটি মানুষ কে সবসময় স্বল্পমূল্যে, টেকসই সেবা দেওয়ায় নিয়োজিত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *