আপনি কি জানেন যে রানী এলিজাবেথ হাজারী গুড় খেয়ে কি বলেছিলেন? জানেন কি এই গুড়ের ইতিহাস? কে তৈরি করলো এই ঐতিহাসিক গুড়? আর অপেক্ষা কিসের,চলুন শুরু করা যাক
আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর পূর্বের বর্তমান মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার ইউনিয়নের ঝিটকা সিকদার পাড়া গ্রামে জন্ম নেন হাজারী গুড়ের জনক, মোহাম্মদ হাজারী নামের এক ঐতিহাসিক ব্যক্তি। তার পিতার নাম ছিল মোহাম্মদ জাকের মাহমুদ।জাকের মাহমুদ ছিলেন অত্যন্ত সৎ ও বিনয়ী একজন কৃষক। তিনি কৃষি কাজের পাশাপাশি শীতকালে খেজুরের রস আহরণ করে সুস্বাদু খেজুরের গুড় উৎপাদন করতেন। তারা একমাত্র পুত্র সন্তান মোহাম্মদ হাজারী জন্মলাভের পর থেকে দিন দিন তার আয় বৃদ্ধি হতে থাকে! মোহাম্মদ হাজারী স্থানীয় পাঠশালা থেকে প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শেষ করেন,এরপর তিনি তার বাবার সাথেই কৃষি কাজে মনোযোগ দেন। এরপর তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে খুব ভালোভাবেই খেজুরের গুড় বানানো শিখে যান!

কথায় আছে- একদিন হাজারী বাড়ির পাশ থেকে একটু দূরে খেজুর বাগানে রসের হাড়ি লাগিয়ে নিচে নামার পর এক দরবেশ কে দেখতে পান, এরপর সেই দরবেশ তাকে বলেন “বাবা আমার খুব তৃষ্ণা পেয়েছে” এরপর তিনি তাকে বলেন আমার কাছে তো আপনার তৃষ্ণা মেটানোর জন্য কিছু নেই। এরপর দরবেশ থাকে বলেন যে তুমি আমাকে তোমার খেজুরের রস আহরণ করতে দাও তাহলে আমার তৃষ্ণা মিটবে। এরপর তিনি বলেন আমি তো সবে মাত্র হাঁড়ি বসিয়ে আসলাম খেজুরের রস আসতে তো অনেক দেরি। এরপর দরবেশ বলল তুমি একবার গিয়ে দেখো, নাটকীয় ভাবে তিনি গাছে ওঠার পর দেখলেন প্রত্যেকটি হাড়ি রসে ভরপুর! এরপর তিনি দরবেশকে সেই খেজুরের রস খাওয়ালেন, এরপর দরবেশ থাকে ঘর বানানোর একটি গোপন পদ্ধতি বলে যান এবং বলেন হাজারী লেখাটি গুড়ের উপর সীল আকারে ছাপিয়ে দিতে।” দরবেশের কথা শোনার পর সে এই গুড় বানিয়ে বিক্রি করা শুরু করলেন।

দেখা গেল যে তার এই গুড়টিকে লোকজন প্রচুর পরিমাণে পছন্দ করছেন! এটি অনেক বিখ্যাত হয়ে গেল যে

খুব দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তারে ঘুর কেনার জন্য আসতেন! ব্রিটিশ শাসনামলে এর বিস্তার এত পরিমাণ বেড়ে গেল যে বেশ প্রভাবশালী লোকেরা এই হাজারী গুড়কে নিজের প্রিয়জনকে উপহার হিসেবে দিত। ব্রিটিশ শাসন আমলে হাজারী গুড়ের জনপ্রিয়তা একসময় এতই বেড়ে যায় যে এই হাজারি গুড় রানী এলিজাবেথের কাছে উপহার হিসেবে পৌঁছায়! তিনি এটি খাওয়ার পর অনেক প্রশংসা করেছিলেন বলে জানা গেছে! তিনি এই গুড়টি একটি সীলমোহর উপহার দেন সেই সিলমোহর টি দিয়ে আজ এই ঘুরে সীল মারা হয়।
এই উপহার দেওয়ার ঐতিহ্য আজও বিদ্যমান। এটি শুধু হাজারী পরিবারকেই বিখ্যাত করেনি, বৃহত্তর ঝিটকা তথা মানিকগঞ্জ জেলাকেই করেছে বিখ্যাত, প্রসিদ্ধ ও সমৃদ্ধ।
আর হাজারী গুড়ের স্বাদ অতুলনীয় এইটি সাধারণ খেজুরের গুড় থেকে একদম আলাদা! এইটি মুখে দেয়ার সাথে সাথেই গলে যায়, এই গুড়ের রং,ঘ্রান ও স্বাদ কোনোটিই সাধারণ খেজুরের গুড়ের মত না। এইটি খেতে বেশি একটা মিষ্টি না হলেও এইটি প্রচুর পরিমাণ সুস্বাদু। মিষ্টি না হওয়ার পরও এটি যে কেন এত মজা আপনি না খেলে কোন ভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন না। আর এই গুড়টি ১০০০ টাকা প্রতি কেজিতে এখনো মানিকগঞ্জে বিক্রি করা হয়। কখনো মানিকগঞ্জ গেলে এটি খেতে ভুলবেন না কিন্তু!
