“প্রায় পাঁচ মাস ধরে আমরা বাসায় আটকে আছি … এই সময়ে ফেইসবুক স্ক্রল করতে করতে আমাদের চোখে পড়ে, অনেক মানুষ অনেক ক্রিয়েটিভ কাজ করছে … অনেকে অনেক নতুন কিছু শিখে ফেলেছে … কেউ কেউ ৩০-৪০ টা অনলাইন কোর্স করে ফেলেছে … কেউ ১০০ টা বই পড়ে ফেলেছে … কেউ নতুন ইনস্ট্রুমেন্ট বাজানো কিংবা নতুন সফটওয়ারের কাজ শিখেছে … কেউ ওয়ার্কআউট করে শেপে চলে আসছে !!
যারা এগুলোর কিছুই করে নি, তাদের এই পোস্টগুলো দেখে দুই রকম অনুভূতি হয়ঃ
১) আমরা মুগ্ধ হই, প্রশংসা করি,
২) ভেতরে ভেতরে আমরা খুবই হতাশ হয়ে যাই নিজেকে নিয়ে।
দ্বিতীয় অনুভূতিটা ভয়ানক … নিজেকে নিয়ে হতাশ হলে, নিজেকে ছোট মনে হলে, আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না – এমন মনে হলে সেখান থেকে বের হওয়া খুব কঠিন … এগুলোর মাঝে অনেকে আবার এই অনুভূতিটাকে আরো বেশি উস্কে দেয় … অনেকে লিখেঃ
“এত সুযোগ আর সময় পেয়েও যারা এতদিনে কোন স্কিল শিখে নি, কোর্স করে নি,নিজেকে ডেভেলপ করে নি – এদের দিয়ে কিছু হবে না”
আমার ধারণা, এভাবে বললে মানুষ আরো বেশি হতাশ হয়ে যাবে … স্কিল গ্যাদার করা, কোর্স করা, নিজেকে ডেভেলপ করা – খুব খুব ভালো কাজ … যারা শিখতে পেরেছে, তাদেরকে অভিনন্দন … কিন্তু যারা শিখতে পারে নি, তাদের জীবনটা কি শেষ? তারা কি খুব অপরাধ করে ফেলেছে? … একদমই না !!
এই সময়টাতে সবার মাঝে অনেক বেশি অস্থিরতা কাজ করেছে … এই অস্থিরতার মাঝে স্কিল ডেভেলপ করাটা খুব জরুরি কিছু না … অনেকেই একদম শুয়ে বসে কাটিয়েছে, তাদেরকেও দোষ দিবো না … কারণ ব্যস্ততা ছাড়া এতটা সময় আমরা কখনোই পাই নি !!
শুয়ে বসে রেস্ট নিয়ে, পরিবারের মানুষের সাথে গল্প করে, সোশ্যাল মিডিয়াতে টাইম পাস করে যারা দিন কাটিয়েছে – তাদের সময় একদমই বৃথা যায় নি … সবাই আসলে সব কাজে আনন্দ পায় না … অনেকে কয়েক ঘন্টা ঘুম কিংবা আরাম করে বসে থাকাতে যে মানসিক শান্তি অনুভব করে, সেই শান্তিটা আর কোন কাজে পাওয়া যায় না … আমরা মানসিক শান্তিটাকে কেন একটা জায়গায়ই আটকে ফেলছি?
যারা এই মুহুর্তে ভাবছে,পাঁচ মাসে কিছুই করলাম না … এভাবে ভেবে হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই …পাঁচমাস আরাম করেছেন, নিজের মত, নিজের জগতে মানসিক শান্তি খুঁজে পেয়েছেন, বাসায় শান্তিতে ছিলেন, পরিবারের মানুষকে সময় দিয়েছেন … এটাই বা কম কি … দিনশেষে মানসিক শান্তিটাই তো আসল !!