হুমায়ুন স্যারের বই রিভিউ

বইয়ের নাম: রুপা

লেখক: হুমায়ুন আহমেদ

রিভিউ: অনেকদিন পর আবারো বই নিয়ে বসলাম। রিডার্স ব্লকে পরে গিয়েছিলাম দীর্ঘ সময়ের জন্য। আর রিডার্স ব্লক ছুটাতে হুমায়ুন স্যার কিংবা মাসুদ রানার বিকল্প নেই। যাইহোক স্যারের রুপা পড়ে শেষ করলাম। এই উপন্যাসটির মূল চরিত্র একজন মেয়ে এবং তার নামই রুপা। বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে এবং সেই সঙ্গে ব্রোকেন চাইল্ড। অর্থাৎ খুব ছোট বেলাতেই রুপার বাবা-মা সেপারেট হয়ে যায়। সেই মুহুর্তে রুপা বাবার সাথে থেকে যাওয়াটাকেই পছন্দ করে। তারপরেও এই ঘটনাটি ব্রোকেন চাইল্ড রুপার ছোট মনে বিশাল দাগ কেটে যায়। সদ্য রিটায়ার্ড করা ইতিহাসের শিক্ষক রুপার বাবা হারুন সাহেব। ওনার স্নেহ এবং আদরের কোনো কমতি ছিলনা রুপার আদর যত্নে। এভাবেই ছোট রুপা ধীরে ধীরে বড় হলো। দৃশ্যপটে একদিন রাশেদ নামক এক যুবকের আবির্ভাব হলো। রাশেদ আমেরিকার এক ইউনিভার্সিটির লেকচারার। নেত্রকোনায় তার গ্রামের বাড়ি। বাংলাদেশে এসেছে এক রমনীর খোঁজে যার সাথে রাশেদের ফোনে ফোনে বিবাহ হয়েছিল। তার স্ত্রী রুনার বাড়ি খুঁজতে এসেই ভুলে রুপার বাড়িতে উঠে পরে রাশেদ। আর এই ভুলটাই কিভাবে কিভাবে যেন শুদ্ধ হয়ে যায় এবং রাশেদের সাথে রুপার সম্পর্ক হয়ে যায়। কারণ, রাশেদের সঙ্গে রুনার বিয়েটা রুনার বাবা মেনে নেয় নি। কারণ, হিসেবে রুনার বাবা খুবই তুচ্ছ তুচ্ছ বিষয় তুলে ধরে সম্পর্কটা শেষ করে দেন। এটাই সাপে বর হয়। পুরো উপন্যাসে রাশেদ আর রুপা ছাড়াও মদীনা নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র রয়েছে। মদীনা নামের এই মেয়েটিকে রুপার বাবা হারুন সাহেব তুলে আনেন এবং বেশীরভাগ সময় তাকে ঘড়ি কন্যা নামে আখ্যায়িত করা হয়। মদীনার একটি গুণ হচ্ছে সে ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারে। ঠিক একই গুণ খুব ছোট থেকেই রুপার মাঝেও আছে কিন্তু রুপা কখনো প্রকাশ করেনি। উপন্যাসে মজার ক্যারেক্টার হিসেবে ছিল সুলতান চাচা, টি স্টলের দোকানী এবং তার ছেলে কেনতু এবং মলিনা। পুরো উপন্যাস জুড়ে রুপার মা শায়লা তার নতুন জামাইকে নিয়ে গর্ব করলেও উপন্যাসের শেষ দিকে তার গর্ব, খর্ব হয়ে যেতে দেখা যায় এবং রুপার কাছেই তাকে ফিরে আসতে হয়।.যাইহোক, দীর্ঘদিন পর এমন একটি উপন্যাস এক চুমুকে পড়ে শেষ করেছি। খুব ভাল লাগা কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *