History of Rivalry Between Apple and Microsoft

টেক-জায়েন্ট অ্যাপল এবং মাইক্রোসফট এই দুইটা নামের সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। তবে এই দুই কোম্পানির পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার  রয়েছে চমৎকার একটি ইতিহাস।

১৯৭৬ সালে স্টিভ জবস, স্টিভ ওজনিয়াক এবং রোনাল্ড ওয়েইন এর উদ্যোগে শুরু হয় অ্যাপল এর যাত্রা। কিছুদিন পর রোনাল্ড ওয়েইন অ্যাপল এ তার শেয়ার বিক্রি করে লিভ নেন। ১৯৮৪ সালে কোম্পানির বোর্ড এবং তৎকালীন সিইও জন স্কালি এর সাথে স্টিভ জবস এর সংঘাতের কারণে তাকে অ্যাপল থেকে বের করে দেয়া হয়। এর পর থেকে কোম্পানির ক্রমাগত লোকসান হতে থাকে। একের পর এক সিইও পরিবর্তন এবং অন্যান্য কৌশল অবলম্বন করেও কোম্পানি এই লোকসান থেকে বের হতে পারে না। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছালো যে প্রতি কোয়ার্টার এ ৭০০-৮০০ মিলিয়ন লস হতো।

এদিকে স্টিভ জবস অ্যাপল ত্যাগ করার পর নিজস্ব একটি কোম্পানি NeXT প্রতিষ্ঠা করলেন।অ্যাপল এর অবস্হা যখন খুব খারাপ তখন ১৯৯৭ এ অ্যাপল স্টিভ জবস এর NeXT কোম্পানিকে কিনে নিয়ে স্টিভ জবস কে ফেরৎ আনলো। কিন্তু কোম্পানির যেহেতু পর্যাপ্ত নগদ ছিলো না তাই তাকে ক্যাশের পরিবর্তে কোম্পানির শেয়ার দেয়া হয়। স্টিভ ফেরার পরপরই অ্যাপল এর পুনর্গঠন শুরু করেন। কিন্তু অ্যাপল এর অবস্হা ততোদিনে এতোই খারাপ হয়েছিল যে তা পুনরুদ্ধার করা তার পক্ষে প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছিল। তখনকার সময়ে  ব্যবহারকারীদের মধ্যে মাইক্রোসফট অফিস এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকায় তারা উইন্ডোজ বেশি ব্যবহার করতো। কিন্তু অ্যাপল এর ম্যাকওএস এ মাইক্রোসফট অফিস ছিল না যার কারণে ম্যাকওএস কিনতো না কাস্টমাররা। এখন স্টিভ জবস এর সামনে দুটো চ্যালেঞ্জ।

১. কাস্টমারদের জন্য মাইক্রোসফট অফিস এর সমস্যার সমাধান করা।

২. কোম্পানির অবস্থার উন্নতির জন্য ফান্ড সংগ্রহের ব্যবস্হা করা।

স্টিভ জবস এমন একটি সিদ্ধান্ত নিলেন যা ছিল অকল্পনীয়। তিনি সরাসরি বিল গেটস(মাইক্রোসফট এর প্রতিষ্ঠাতা) কে approach করলেন। অথচ মাইক্রোসফট ছিল অ্যাপল এর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। এটা একটা অনন্য দৃষ্টান্ত যেখানে অ্যাপল সরাসরি তার প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিকে approach করেছিল।স্টিভ জবস কিভাবে কি মনে করে এমন একটা বিষ্ময়কর পদক্ষেপ নিলেন তার পেছনে রয়েছে আরেকটি চমকপ্রদ কাহিনী।শুরু থেকেই অ্যাপল এবং মাইক্রোসফট এর মধ্যে প্রতিযোগিতা(competition) ও দ্বন্দ্ব(rivalry) বিদ্যমান ছিল। মাইক্রোসফট অ্যাপল এর বেশ কিছু আবিস্কার কপি করেছিলো। স্টিভ জবস যখন তা জানতে পারেন তখন তিনি মাইক্রোসফট এর বিরুদ্ধে ম্যাকওএস এর লুক এন্ড ফিল(look and feel) কপি করার অভিযোগে কেস করেন।

অনেক দিন ধরে এই কেস চলছিল। এই কেস থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে আসছিল যে মাইক্রোসফট অ্যাপল এর লুক এন্ড ফিল কপি করায় স্টিভ জবস এর জয়ের সম্ভাবনাই বেশী। তাই এখন স্টিভ জবস বিল গেটসকে অফার করলেন যদি আপনি  অ্যাপল এ কিছু ক্যাশ বিনিয়োগ করেন এবং কয়েক বছরের জন্য ম্যাক ওএস এ মাইক্রোসফট অফিস এর অ্যাক্সেস দেন তবে আমি কেস উঠিয়ে নিবো। এই অফারটা বিল গেটস গ্রহণ করলেন। ১৯৯৭ সালের ৬ আগস্ট স্টিভ জবস ঘোষণা দিলেন  মাইক্রোসফট অ্যাপল এ ১৫০ মিলিয়ন ডলার নন-ভোটিং শেয়ারে বিনিয়োগ করবে এবং ৫ বছরের জন্য ম্যাকওএস মাইক্রোসফট অফিসের অ্যাক্সেস পাবে। কিন্তু মাইক্রোসফট তখন কার সময়ে সবচেয়ে বড় কোম্পানি ছিল। মার্কেট এর ৯০% শেয়ারই মাইক্রোসফট এর ছিল। অর্থাৎ কেস হারলেও তার তেমন কোন ক্ষতি হতো না। তবে  বিল গেটসকে কি মনে করে জবসের এই অফার গ্রহণ করলেন!

আসলে মাইক্রোসফট তখন মার্কেট এ মনোপলি করে এতো বড় জায়গা দখল করে নিয়েছিল যে অন্যান্য প্রতিযোগিরা কোন সুযোগই পাচ্ছিলো না। বর্তমানের ফিল্যানথ্রপিস্ট বিল গেটস তখন ফিল্যানথ্রপিস্ট ছিলেন না। মাইক্রোসফট কে উঠানোর জন্য যা করা লাগবে সব করতে প্রস্তুত  ছিলেন তিনি। মাইক্রোসফট এর এই মনোপলি লক্ষ্য করে ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস মাইক্রোসফট এর বিরুদ্ধে কেস করার প্রস্তুতি নেয়। তখনকার মাইক্রোসফট এর এক বড় প্রতিযোগি অ্যাপল যখন মার্কেট থেকে প্রায় ছিটকে পড়ে যাচ্ছিল তখন বিল গেটস চিন্তা করে দেখলেন যদি আমি অ্যাপল কে বাঁচাই তবে এমন একটা ইমেজ সৃষ্টি হবে যে মাইক্রোসফট তার প্রতিযোগিকে কে রক্ষা করেছে তার ফলে ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস কেস করা থেকে বিরত থাকবে।

তিনি তাই করলেন এবং ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস ও কেস উঠিয়ে নিলো এবং মাইক্রোসফট এর বিরুদ্ধে অ্যান্টিট্রাস্ট রেগুলেটরি বডি কোন ব্যবস্থা নেয়নি।So দেখা যাচ্ছে deal টা অ্যাপল এর জন্য যেমন লাভজনক ছিল মাইক্রোসফট এর জন্য ও তেমন লাভজনক হলো। ২০০১ এ অ্যাপল এর কেস উঠিয়ে নেয়া হয়। ২০০৩ এ বিল গেটস অ্যাপলের সব শেয়ার বিক্রি করে দিলেন। কিন্তু ২০০২-০৩ এই অ্যাপল এর মার্কেট প্রাইস দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে এবং অ্যাপল মাইক্রোসফট কে পিছনে ফেলে দেয়। শেয়ার বিক্রি না করলে বিল গেটস এর যে লাভ হতো তা থেকে তিনি বঞ্চিত হলেন।

মূলত স্টিভ জবস এর এক দূরদর্শী  ও সাহসী পদক্ষেপের কারণেই আজকে অ্যাপল এবং মাইক্রোসফট পৃথিবীর অন্যতম বড় দুটি কোম্পানি। বর্তমানে  ব্র্যান্ড ভ্যালু অনুযায়ী অ্যাপল(৩৫২ বিলিয়ন ডলার)   বিশ্বের প্রথম কোম্পানি এবং দ্বিতীয় স্থানেই আছে মাইক্রোসফট (৩২৭ বিলিয়ন ডলার)।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *