Movie Name: Khuda Haafiz
Industry: Bollywood
Language: Hindi
Genre: Love story & Crime thriller
My rating: 4 out of 5
.
বেশ কিছু ভাল রিভিউ দেখে মুভিটা দেখতে বসলাম। কিন্তু আমার পড়া রিভিউ গুলোর চাইতেও অনেক বেশী ভাল ছিল বিদ্যুৎ জামওয়াল অভিনীত “খুদা হাফিজ”।
দুটি ভিন্ন ধর্মের দুজন মানুষের ভালবাসা দিয়ে মুভিটির পথচলা শুরু। পারিবারিক সম্মতিক্রমে সামির আর নারগীসের বিয়েটাও হয়ে যায়। নারগীসের বাড়িতে মুসলিম রীতিতে আর সামিরের বাড়িতে হিন্দু রীতিতে দু’জনের বিয়ে সম্পন্ন হলো। খুব সুন্দরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে গল্প। সামির এবং নারগীস দু’জনই চাকরিজীবী। আলাদা অফিস হলেও প্রতিদিন অফিস শেষে একসঙ্গে বাড়িতে ফিরে ওরা। বেশ ভালই চলতে থাকে ওদের সংসার। কিন্তু ভারতের অর্থনীতিতে একটা পর্যায়ে ভীষণ মন্দা নেমে আসে।
অনেকের মত সামির ও নারগীস দু’জনেই চাকরি হারিয়ে বসল। চাকরি হারিয়ে দু’জনই যখন পাগলপ্রায় তখন একটি জব এজেন্সি ওদেরকে চাকরি দেবার আশ্বাস দিল। কিন্তু চাকরিটা হবে দেশের বাহিরে নোমান নামক একটি দেশে(কাল্পনিক নাম)। বেকার বসে থাকার চেয়ে সামির আর নারগীস দু’জনেই ভিন্ন দেশে গিয়ে চাকরি করার সিদ্ধান্তে আসলো। ওরা এজেন্টকে কনফার্ম করে দিল যে ওরা জব পেতে এবং নোমান নামক দেশে যেতে ইচ্ছুক। যাহোক এর বেশ কিছুদিন পর জব অফার লেটার আসলো। কিন্তু সেটি শুধু মাত্র নারগীসের জন্য। সামিরের অফার লেটার আসবে আরো ৪-৫ দিন পর কারণ, দুইজন দুই কোম্পানিতে আবেদন করেছিল।
অগত্যা, নারগীসকে একাই সামিরের আগে নোমানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে হলো। এদিকে সামির নারগীসকে বলে দিল যেন নোমানে নেমেই তাকে ফোন দেয়। পরদিন সকালে সামিরের নাম্বারে ফোন আসলো ঠিকই কিন্তু ফোনের ওপাশে ছিল নারগীসের ভয়ার্ত গলা এবং দেশে ফিরে আসার আকুতি। দিশেহারা হয়ে সামির সেই চাকরিদাতা এজেন্টকে গিয়ে ধরলেও দেশে বসে কোনো কূলকিনারা করতে না পেরে অবশেষে টুরিস্ট ভিসায় নোমানের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
নোমানে অবতরণ করে দিশেহারা সামির কোনোভাবেই খোঁজ পায়না নারগীসের। কিন্তু বহু প্রচেষ্টার ফল স্বরুপ অবশেষে সামিরের সঙ্গে নারগীসের একটা জায়গায় দেখা হয় এবং সেই জায়গাটি ছিল একটি পতিতাপল্লী! দেখা হয়েও কোনো লাভ হয়না। নারগীসকে সেখান থেকে বের করে আনতে ব্যর্থ হয় সামির।
যাইহোক, নারগীস কীভাবে চাকরির খোঁজে এসে পতিতালয়ে চলে গেল? কারাই বা ওকে এখানে আনলো? শেষ পর্যন্ত সামির কী পারবে নারগীসকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত নিয়ে যেতে? হিউম্যান ট্র্যাফিকিং এই বিজনেসটার পিছনে যারা মাস্টার মাইন্ড রয়েছে তাদের মুখোশ কি উন্মোচিত হবে?
এরকম নানাবিধ প্রশ্ন আপনার মনে ঘুরপাক খাবে একেবারে শেষ ১০ মিনিটের আগ পর্যন্ত। মুভির ক্লাইমেক্সে বিশাল ধরনের একটা চমক রয়েছে। মোটামুটি একটা ধাক্কার মত খাবেন।
হিউম্যান ট্র্যাফিকিং নিয়ে এর আগেও অনেক মুভি দেখেছি কিন্তু এটা একটু ভিন্ন ঘরানার ছিল।
রোমান্টিক, ক্রাইম, থৃলার এই তিনের মিশেলে চমৎকার একটি মুভি ছিল “খুদা হাফিজ”