ফ্রীল্যান্সার নাসিমঃ জমি বন্ধক রেখে ল্যাপটপ কিনেছিলো।

একজন মানুষ অনেক কষ্ট এবং বহু বাধা অতিক্রম করে তবে সে সফলতা অর্জন করে । এখন আপনি যার সফলতা গল্প পড়বেন তিনি হলেন ফ্রীল্যান্সার নাসিম

যারা ফ্রীল্যান্সিং করেন তারা নিশ্চয় ফ্রীল্যান্সার নাসিম নামটি শুনে থাকবেন । তিনি আমাদের দেশে একজন সফল ইউটিউবার এবং ফ্রীল্যান্সার হিসাবে তার অনেক সুনাম রয়েছে ।

তার জন্ম ২০ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬ দিনাজপুর জেলায় । তার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং সাবেক সেনা-কর্মকর্তা । তিনি যখন ক্লাস ৩/৪ এ ছিলেন  তখন তার বাবা একটি মোবাইল কিনে । যেটি ছিলো তাদের এলাকার মধ্যে প্রথম ফোন । সে তখনই অল্প কয়েক দিনের ফোন চালানো শিখে ফেলে। তার পরে সে তার বাবা কাছে একটি ফোন আবদার করে তারপর তার বাবা তাকে ফোন কিনে দেয়।

এর কারনে সে লেখাপড়া খুব অমনোযোগী হয়ে যায় নিয়মিত স্কুল যেতো না এবং যার ফল সে ক্লাস ৫ এ পিইসি পরীক্ষাতে ফেল করে । তারপর সে ঠিক করে ফেলে যে সে আর লেখপড়া করবে না তার এই লেখাপড়া ভালো লাগত না । সে তার বাবার ব্যবসার কাজে সাহায্য করত এই ভাবে সে দুই বছর নষ্ট করে। তারপর তার পরিবার তাকে ভালো ভাবে বুঝিয়ে তাকে আবার ক্লাস ৬ এ ভর্তি করিয়ে দেয়। তারপর আবার লেখাপড়া শুরু করে । ক্লাস ৮ পর্যন্ত সে লেখাপড়াতে অমনোযোগী ছিলো সে প্রায় স্কুল ফাঁকি দিত।

তারপর ক্লাস ৯ এ ভর্তি হবার পর সে নিজেকে উপোলব্ধি করে যে তাকে এখন ভালো ভাবে পড়াশোনা করতে হবে। ক্লাস ৯ এ থাকা অবস্থায় জানতে পারে যে তার এলাকার এক বড় ভাই অনলাইন থেকে টাকা আয় করছে । তারপর সে তার ওই বড় ভাইয়ের কথামত সে তার উপজেলার একটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার কম্পিউটার প্রশিক্ষনের জন্য ভর্তি হয় । এখন তার একটি কম্পিউটার প্রয়োজন কারন সে কম্পিউটার শিখছে এবং সে এখন ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করবে।

এই বিষয়টি অর্থাৎ কম্পিউটার কেনার বিষয় তার পরিবারকে সে জানালে তার পরিবার তাতে অসম্মতি দেয় । তারপর বহু বাধা বিপত্তি পেরিয়ে তার জন্য জমি বন্ধক রেখে তার পরিবার তাকে একটি ল্যাপটপ কিনে দেয়। সে প্রথমে কিন্তু ফেসবুক লাইকের কাজ করত আপানারা হয়ত অনেকে এই কাজে সাথে পরিচিত  রয়েছেন।

তারপর সে পড়াশোনার পাশাপাশি, ওয়েবডেভ্লপমেন্টের কাজ শিখে আপওয়ার্ক(upwork) এ কাজ শুরু করে । তার প্রথম কাজটি ছিলো মাত্র ৩ ডলারের । প্রথম কাজ পাওয়ার কয়েক দিন পরে সে আরো একটি কাজ পায় যেটা ছিলো ৫০০ ডলারের,এরপর থেকে সে নিয়মিত কাজ করতে থাকে ।

এখন আমরা বর্তমানে ফ্রীল্যান্সিং টাকা সহজে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে টাকা নিতে পারি ।কিন্তু  ৮/৯ বছর আগে আমাদের দেশে ফ্রীল্যান্সিং করে টাকা হাতে পাওয়াটা সহজ ছিলো না।

এই ফ্রীল্যান্সিং টাকার জন্য তাকে( ফ্রীল্যান্সার নাসিম ) অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে । সে যখন ফ্রীল্যাঞ্চিং টাকা হাতে পেলো তখন তার পরিবার , এলাকার লোকজনের নানা ধরনের ক্টু কথার সম্মুখীন হতে হয়েছে । তার এই টাকা আয় দেখে তার বাবা তাকে বলে যে ল্যাপটপ এর কোন দিক থেকে টাকা বের হয় তাকে দেখাতে হবে। তারপর সে সবাই কে ভালোভাবে বোঝালে তারপর সবাই ব্যাপারটা বুঝে ।

তার কাজের ২বছরে আপয়ার্ক(upwork) এ তার একাউন্ট ব্যান হয়ে যায়, এই কারনে সে ফ্রীলান্সার.কম নিয়মিত কাজ শুরু করে । তার কিছু বড় অর্জন রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে এইদুটি , ফ্রীল্যান্সার.কম (freelancer.com) থেকে একটি প্রতিযোগিতা হয় যেখানে তিনি অংশগ্রহণ করেন এবং সেখানে তিনি বিশ্বের লাখো প্রতিযোগিতার মধ্যে তিনি রানার্সআপ অধিকার করেন । এরপর ফ্রীল্যান্সার.কম থেকে অফিসিয়াল ভাবে একটি প্রতিযোগিতা হয় যেটি ছিলো ফ্রীল্যান্সিং ব্লগ প্রতিযোগিতা সেখানে অনেক দেশ থেকে হাজারো ফ্রীল্যান্সার অংশগ্রহন করে। সেই প্রতিযোগিতায় সে বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বের মাঝে সেরা ১০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে তার নাম সেরা ১০ জনের মধ্যে আসে। ফ্রীলান্সার.কম থেকে এই দুটি তার অনেক বড় অর্জন ।

তাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে তবে সে সাফল্য অর্জন করেছেন । তিনি অনেক দেশে অনেক মানুষের সাথে কাজ করছেন । তিনি বর্তমানে একজন ওয়েবডেভলপার এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসাবে বিভিন্ন সংস্থাতে কাজ করছেন। তার পাশাপাশি তিনি একজন প্রশিক্ষক হিসাবে তার ইউটিউব চ্যানেলে ও তার ট্রেনিং সেন্টার এ প্রশিক্ষন দেন।

তথ্যসূত্র

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.