শিক্ষার্থী অবস্থাতেই পদোন্নতি পেয়ে সি.ই.ও হন রাফসান

ভোলার ছেলে রাফসান বিন রাজ্জাক। বর্তমানে বসবাস ঢাকার লিংক রোডে। পড়ালেখা করছেন  একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ সেমিস্টারে অথচ এই বয়সেই নিজের কর্মদক্ষতা দিয়ে পদোন্নতি পেয়ে হয়ে  গিয়েছেন  প্রোডাক্ট হাব নামের একটি প্রাইভেট কোম্পানির সি.ই.ও।

কলেজ জীবন থেকেই ঢাকাতে বসবাস রাফসানের। বাংলাদেশ নেভি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এই কলেজ জীবনেই বিভিন্ন সাংগঠনে কাজ করা শুরু তার। বাংলাদেশ নেভি কলেজের বিতর্ক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাছাড়াও তিনি কমিউনিকেশন অফিসার হিসেবে আছেন দেশের বিখ্যাত সংগঠন এক্সিলেন্স বাংলাদেশে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে পাবলিক রিলেশন হেড হিসেবে নিয়োগ পান প্রোডাক্ট হাবে। মাত্র ৫ মাসেই নিজেকে প্রমাণিত করে পাবলিক রিলেশন হেড থেকে সিইও পদে উন্নীত হন। এতেই বুঝা যাচ্ছে কতোটা দায়িত্বের সাথে নিজের কাজ  করে যাচ্ছেন তিনি।

শিক্ষার্থী হয়েও কেনো জব করছেন, এই প্রশ্নের জবাবে রাফসান বলেন, “মানুষ গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর দুইটা রাস্তা থাকে,একটা হচ্ছে চাকরী আরেকটা উদ্যোক্তা হওয়া।একটা স্টার্টাপ ইকমার্সের সিইও হিসেবে জব করা অনেকটা নিজের কোম্পানির মতই।শিখতে পারছি যদি উদ্যোক্তা হই তাহলে কি ধরনের বিষয়গুলো কিভাবে চিন্তা ভাবনা করা যায়। তিনি আরো বলেন, “স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় যে জবেই ফোকাস দিচ্ছি তাও না,আমি একটা ভিন্ন থিওরিতে বিশ্বাস করি আসলে।আমার কাছে বিশ্ববিদ্যালয় মানে বিশ্বের সবকিছু থেকে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আমি পাঠ্যপুস্তক ও পড়ছি আবার এইদিকে অন্যান্য নলেজ ও গ্যাদার করছি।”

যেখানে বর্তমান তরুণদের চিন্তাভাবনাই শুধুমাত্র পরীক্ষার সিজিপিএ নিয়ে সেখানে রাফসানের এমন ভিন্নধর্মী চিন্তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সে এতো অল্প বয়সেই করে চলেছেন চমৎকার কিছু কাজ। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা যদি পড়ালেখার পাশাপাশি কোন জব করতে চান তবে আপনার তাদের প্রতি কি পরামর্শ থাকবে, এই প্রশ্নের জবাবে সে বলেন, “এখন কার পরিস্থিতিটা আগের মতো নেই।একটা সময় আসবে যখন ইন্টার্নিশিপ পেতেও অনেক স্কিল ম্যাটার করবে।তাই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যেই থিওরিতে আমি বিশ্বাস করি যে বিশ্ব মানে বিশ্ব আর বিদ্যালয় মানে শেখার জায়গা!অর্থাৎ আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানে আপনার শেখার কোনো পার্টিকুলার ফিল্ড নেই।প্রচুর শিখতে হবে।সেটা পাঠ্যক্রম হতে পারে।এছাড়াও আপনি দেখবেন অনেক কোম্পানি স্টুডেন্টদের পার্টটাইম জব অফার করে।স্টার সিনেপ্লেক্স স্টুডেন্টদের পার্টটাইম জব অফার করে,স্বপ্ন করে এছাড়াও অনেক কোম্পানি ক্যাম্পাস এম্বাসেডর নেয়,অনেক পত্রিকা ক্যাম্পাস কোরেসপন্ডেন্ট নেয়।জবের অভাব নেই।” তিনি এ বিষয়ে আরো বলেন, “তাছাড়া দেখুন সফট স্কিলের কিন্তু অনেক ভ্যালু।আমার কোম্পানিতে যেই দুইটা ছেলে গ্রাফিক্স আর ভিডিও এডিটিং এর কাজ করে,দুইটাই কিন্তু স্টুডেন্ট।সো আপনার স্কিল থাকলে আপনার জব হবেই। এইযে লক ডাউনে বসে আছি,আপনি চাইলেই কয়েকটা গ্রাফিক ডিজাইনিং ভিডিও এডিটিং এর কোর্স করে ফেলতে পারেন,ডিজিটাল মার্কেটিং এসইও এইসব শিখতে পারেন।”

রাফসান বর্তমান প্রজন্মের কাছে একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। শিক্ষার্থী অবস্থাতেই হয়ে গিয়েছেন সিইও। কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং একাগ্রতা থাকলে যে সবই সম্ভব তাই প্রমাণ করে চলেছেন সে। এদেশের তরুণরা নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুললে দেশের বেকারত্বে হার হ্রাস পাবে অচিরেই এটি তাকে দেখে প্রমাণিত হয়। এমন আরো কিছু রাফসান তৈরি হলে বদলে যাবে এদেশ। তরুণরাই হাল ধরবে সমাজের পরিবর্তনের এ প্রত্যাশাই আজ গোটা জাতির।

One thought on “শিক্ষার্থী অবস্থাতেই পদোন্নতি পেয়ে সি.ই.ও হন রাফসান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *