বর্তমান প্যানডামিক অবস্থাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ না বাড়িয়ে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতাভুক্ত অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমেই বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে। স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যায় পর্যন্ত একই পদ্ধতিতে কার্যক্রম চালু আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদেরও অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস করাটা আমাদের সবারই একটি নতুন অভিজ্ঞতা, যেহেতু এর আগে এটি কখনো করা হয়নি। আমার কাছে অনলাইন ক্লাসের অনুভূতি বলতে গেলে একদিক থেকে ইতিবাচক অন্য দিক থেকে নেতিবাচক দিকও রয়েছে।
প্রথমে ইতিবাচক টা দিয়েই শুরু করি। অনলাইন ক্লাসের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করা যায়। বাসার মধ্যে একটি নিরিবিলি পরিবেশ পাওয়া যায় ক্লাস করার ক্ষেত্রে, যেটা আমরা আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ক্লাস রুমে পেয়ে থাকি না। আরেকটা ইতিবাচক দিক হলো অনেক সময় বাঁচানো যায়। ভার্সিটিতে আসা যাওয়ায় যে সময়টা, আমাদের রাস্তাঘাটের প্রচুর জ্যামের মুখোমুখি হতে হয় সেটা থেকে আমরা মুক্তি পাচ্ছি। বাসায় যেখানে ইচ্ছা সেখানে বসে ক্লাস করতে পারি।
ক্লাস রুমের যে হৈচৈ বা সাইড টকিং ব্যাপারটা অনলাইন ক্লাসে থাকে না বিধায় বেশি মনোযোগ দেয়া সম্ভব হয়। এতোকিছুর পরেও কিন্তু কিছু নেতিবাচক দিক থেকে যায়। অনলাইন ক্লাসের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশের নেটওয়ার্ক সিস্টেম। অনেক সময় দেখা গেল নেট অথবা ওয়াইফাই স্লো হয়ে যাচ্ছে, আবার দেখা গেল কারেন্ট নাই ওয়াইফাই অফ থাকে।
মোবাইলের ক্ষেত্রে চার্জ নিয়ে সমস্যা হয়। মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলেতো কথাই নেই। বিদ্যুৎ এর সাথে সাথে নেটও পাওয়া যায়না। আরেকটা সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে অনেকক্ষণ ধরে মোবাইলে বা কম্পিউটারে ক্লাস করার ফলে চোখে প্রচুর সমস্যা হচ্ছে, যেমন চোখে ব্যাথা ও জ্বালা পোড়া হচ্ছে। শিক্ষকরা যে শিক্ষা উপকরণ( পিডিএফ, স্লাইড )গুলো ক্লাসে সরবরাহ করছে সেগুলো স্ক্রিনে পড়তে গেলে এই শারীরিক সমস্যাটা হচ্ছে। এখানে কিন্তু আমরা আমাদের বন্ধু বান্ধবদের সাথে আড্ডা দিতে পারছিনা, মজা করতে পারছিনা।
এটা দীর্ঘ মেয়াদি হলে আসলে আমরা নিজেরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যেতে পারি যা আসলে কারো জন্যই ভালো হবে না। সবশেষ বলতে পারি, একটা পাঁচমেশালি অনুভূতি হচ্ছে। একদিক থেকে ভালো তো অন্য দিক থেকে খারাপ।